দুই মাসে ব্যাংকে ফিরলো ১৪ হাজার কোটি টাকা

 দুই মাসে ব্যাংকে ফিরলো ১৪ হাজার কোটি টাকা 


**বিগত সরকারের শাসনামলে ব্যাংক খাতে বড় সংকট: দুই মাসে ফিরলো ১৪ হাজার কোটি টাকা**


বিগত সরকারের শাসনামলে ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছিল। নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ সৃষ্টি, বিদেশে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার এবং ব্যাংক পরিচালকদের অনিয়মের কারণে ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের আস্থা তলানিতে নেমে গিয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, এক ডজনের বেশি ব্যাংকে তীব্র তারল্য সংকট তৈরি হয়। অনেক ব্যাংক এখনও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে, নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে, ফলে আমানতকারীরা আবারও তাদের টাকার একটি বড় অংশ ব্যাংকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। গত দুই মাসে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) ব্যাংকে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর থেকে মানুষের মধ্যে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রাখার প্রবণতা বাড়তে থাকে। এই প্রবণতা ব্যাংকগুলোর উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে, নতুন গভর্নরের নেয়া পদক্ষেপগুলোর কারণে ব্যাংক খাতে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরেছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অক্টোবর শেষে ছাপানো টাকার পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা, এর মধ্যে ৫১ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখায় ছিল। বাকি টাকা ব্যাংকগুলোর ভল্টে এবং মানুষের হাতে ছিল। অক্টোবরে প্রচলনে থাকা টাকার পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা। 


গত বছরের একই সময়ের তুলনায়, ব্যাংক খাতে নগদ টাকার পরিমাণ বেশ বেড়েছিল। বিশেষ করে, জুলাই ও আগস্ট মাসে আমানত কমে গিয়েছিল, কিন্তু সেপ্টেম্বরে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। 


এছাড়া, গত জুনে ব্যাংক খাতে মোট আমানত ছিল ১৭ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা আগস্টে কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায়। তবে সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ১৭ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। 


বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, গত কয়েক মাসে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নির্বাচনের আগে বাড়তি খরচের কারণে অনেকে তাদের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছিলেন। তবে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন, ব্যাংক খাতের সংস্কারের কারণে মানুষের আস্থা ফিরছে। 


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে এই পরিবর্তন দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Post a Comment

0 Comments